Header Ads

কেন দরকার করোনার বুস্টার ডোজ?


বিশ্বের বিভিন্ন দেশসহ আমাদের দেশেও করোনার প্রথম ডোজ দেওয়া হচ্ছে। এখন দ্বিতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজের অপেক্ষা। আমাদের দেশে এক মাস বা চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। আবার যুক্তরাজ্য ঠিক করেছে ওরা দ্বিতীয় ডোজ বিলম্বিত করবে, হয়তো তিন মাস। যা–ই হোক দুই ডোজ লাগবেই। প্রশ্ন হলো বুস্টার ডোজ কেন এত দরকার। এর কারণ হলো প্রথম ডোজ টিকায় কিছু সুরক্ষা হয় ঠিকই, কিন্তু বুস্টার ডোজ গ্রহণ না করলে সেই সুরক্ষাব্যবস্থা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৫ জানুয়ারি ২০২১ বিবিসি ফিউচারে (অনলাইন) জারিয়া গরভেট বিষয়টি বেশ সুন্দরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। 

প্রথম টিকা নেওয়ার পর দেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা রক্তের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শ্বেতকণিকাকে সক্রিয় করে। প্রথমত প্লাজমা বি-সেল। এরা প্রধানত অ্যান্টিবডি তৈরির প্রতি মনোযোগ দেয়। কিন্তু এই সেলগুলোর স্থায়ীত্বকাল কম। তাই প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর রক্তে প্রচুর অ্যান্টিবডি থাকলেও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া না হলে এদের সংখ্যা কমে যায়। আরেকটি হলো টি-সেল। নির্দিষ্ট প্যাথোজেন চিহ্নিত করে এদের অকার্যকর করে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে এরা। এদের মধ্যে কিছু থাকে ‘মেমোরি টি-সেল’। এরা দেহে কয়েক দশক টিকে থাকে। নির্দিষ্ট ভাইরাস পেলে আক্রমণ করে। তার মানে টিকা নেওয়ার পর অথবা যাঁদের একবার করোনা হয়ে গেছে, তাঁদের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো এ ধরনের ‘মেমোরি টি-সেল’–এর সংখ্যা খুব কম থাকে। দ্বিতীয় ডোজ না পাওয়া পর্যন্ত এদের সংখ্যা বৃদ্ধি সম্ভব না।

টিকার দ্বিতীয় ডোজের আসল কাজ হলো অ্যান্টিবডি তৈরিতে দেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে সক্রিয় করে তোলার জন্য আবার কিছু অ্যান্টিজেন দেহে ঢুকিয়ে দেওয়া। ফলে সুনির্দিষ্ট ভাইরাস বা প্যাথোজেন-সংশ্লিষ্ট অণুগুলোর সন্ধান পাওয়ামাত্র দেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা বিপুল শক্তিতে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। শুরু হয় সুরক্ষাব্যবস্থার দ্বিতীয় অধ্যায়। এর ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার সব দিক সদা প্রস্তুত অবস্থায় থাকে। মেমোরি টি-সেলের সংখ্যা বাড়ে, আবার ক্ষেত্র বিশেষে সংখ্যাধিক্য ঘটে মেমোরি বি-সেলেরও। তাই বলা যায় করোনার বিরুদ্ধে দেহের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বুস্টার ডোজের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে।


টিকা নেওয়ার পরও কেন সাবধানতা দরকার

আমাদের দেশে এখন অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা দেওয়া হচ্ছে। পরে ফাইজার, মডার্না বা অন্যান্য ধরনের টিকাও আসবে। এক হিসাব অনুযায়ী, অক্সফোর্ড টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে প্রায় ৬৪ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজের পর প্রায় ৯০ শতাংশ সুরক্ষা পাওয়া যায়। অন্যান্য টিকায়ও কমবেশি এই মাত্রার সুরক্ষা পাওয়া যায় বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। তবে সুরক্ষার হার নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কিন্তু এটা তো ঠিক যে মোটামুটি একধরনের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। তাহলে কেন আমরা বলি টিকা গ্রহণের পরও মাস্ক পরে চলাফেরা করতে হবে? এর একটি কারণ হলো টিকায় নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত হলেও হয়তো করোনাভাইরাস আমার নাক-মুখের মাধ্যমে দেহে ঢুকতে পারে এবং এরপর আবার আমার হাঁচি-কাশি অন্যকে আক্রান্ত করতে পারে। তাই এর প্রতিকারের জন্য মাস্ক পরা দরকার। আর তা ছাড়া এমনও হতে পারে যে টিকা গ্রহণের কয়েক দিন আগে-পরে হয়তো আমি করোনায় সংক্রমিত হলাম। টিকা গ্রহণের সময় হয়তো এর কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। এ অবস্থায় টিকা নিলেও অন্তত ১০-১৫ দিনের আগে এর সুফল পাওয়া যাবে না। এ অবস্থায় আমি মাস্ক না পরলে নিজে তো বটেই, অন্য অনেকে সংক্রমিত হতে পারেন। তাই মাস্ক পরা দরকার। তবে শুধু নিজের টিকা গ্রহণই যথেষ্ট নয়। দেশে মোটামুটি হার্ড-ইমিউনিটি না হওয়া পর্যন্ত সবারই মুখে মাস্ক পরে চলাফেরা করা দরকার।


সংক্রমণের হার কেন কমছে?

বাংলাদেশে এখন করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণের হার কমের দিকে। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই চিত্র। টিকা দেওয়া শুরু হতে না হতেই করোনার প্রকোপ কমে আসা—এ দুয়ের মধ্যে কি কোনো সম্পর্ক আছে? অনেকের মনে এ প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। এ বিষয়ে গবেষকেরা বলছেন, টিকা দেওয়ার অতি সাম্প্রতিক কার্যক্রমের সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকার কথা নয়। আসল ব্যাপার হলো ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে সম্প্রতি লকডাউন, মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোওয়া, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ও হচ্ছে। আমাদের মতো দেশগুলোতেও এসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর সুফল হিসেবে করোনার প্রকোপ কমছে বলা চলে। কিন্তু আমরা যদি অন্তত মাস্ক পরার নিয়মটি না মানি, তাহলে আবার করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে। বিষয়টি সবার মনে রাখা দরকার।

Powered by Blogger.