Header Ads

১ লাখ ৬০ হাজার বনে অবৈধ দখলদার


সারা দেশে বনের জমি জবরদখল করে রেখেছেন মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৫৬৬ জন। তাঁদের দখলে আছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৫৮ একর বনভূমি। বনের জমি দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণ, কৃষিকাজ থেকে শুরু করে তৈরি করা হয়েছে শিল্পকারখানা। উল্লেখ্য, দেশে মোট বনভূমির পরিমাণ ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ একর।দখলের থাবা থেকে রক্ষা পায়নি সংরক্ষিত বনভূমিও। মোট দখলদারদের মধ্যে ৮৮ হাজার ২১৫ জন সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে রেখেছেন। তাঁদের জবরদখলে আছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬১৩ দশমিক শূন্য ৬ একর সংরক্ষিত বনভূমি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বন বিভাগের দেওয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গতকাল রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদীয় কমিটির এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অবৈধ দখলে থাকা বনভূমি উদ্ধারে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা স্থাপন করে যে বনভূমি দখল করা হয়েছে, সেগুলো উদ্ধারে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, সাংসদ নাজিম উদ্দিন আহমেদ, তানভীর শাকিল, জাফর আলম, রেজাউল করিম এবং খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন।

গতকালের বৈঠকের আগের বৈঠকে সংসদীয় কমিটি অবৈধভাবে বনের জমি দখলদারদের তালিকা দিতে বলেছিল। সে অনুযায়ী বৈঠকে তালিকা উপস্থাপন করা হয়। বন বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বন দখল করে স্থায়ী স্থাপনাসহ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা করেছেন ১৭২ জন। তাঁরা ৮২০ একর সংরক্ষিত বন দখল করে রেখেছেন। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, যেমন হাটবাজার, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কটেজ, ফার্ম, রিসোর্ট ইত্যাদি করে ৪ হাজার ৯১৪ একর বন দখল করেছেন ৩ হাজার ৩২৯ জন। সংরক্ষিত বনে ঘরবাড়ি করেছেন ৫৮ হাজার ৪০৭ জন। স্থায়ী স্থাপনা না করে কৃষিকাজ, বাগান ইত্যাদি করে বন দখলে রেখেছেন ২৬ হাজার ৩০৭ জন।

সংরক্ষিত বন বাদে অন্যান্য শ্রেণিভুক্ত বনভূমির মধ্যে ৯০১ একর বনভূমি দখল করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা করেছেন ১২৭ জন। বনের জায়গায় অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, যেমন হাটবাজার, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কটেজ, ফার্ম ইত্যাদি করে বন দখল করেছেন ২ হাজার ২২৭ জন। ঘরবাড়ি, বসতভিটা করেছেন ৫২ হাজার ৪২৯ জন। স্থায়ী স্থাপনা না করে বনের জমি দখলে রেখেছেন ১৭ হজার ৫৬৮ জন।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সারা দেশের বনভূমি দখলদার ও দখলি জমির একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিটি পেয়েছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ৫০০ একরের মতো জমি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া বনের জমি উদ্ধারের জন্য দেশের সব জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের শেষ নাগাদ বেদখল হওয়া জমির বড় একটি অংশ উদ্ধার করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।সাবের হোসেন বলেন, বেদখল হওয়া বনের জমি উদ্ধার ও ভবিষ্যতে যাতে বেদখল হতে না পারে, সে জন্য আন্তমন্ত্রণালয়ের সমন্বয় জরুরি। ভূমি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। বন ও ভূমি মন্ত্রণালয় ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ হিসেবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।

Powered by Blogger.