Header Ads

রূপরহস্য ফ্যারেল উইলিয়ামের


চল্লিশ পেরোলেও ফ্যারেল উইলিয়ামের চেহারায় কুড়ির তারুণ্য। আমেরিকান এই সংগীতশিল্পী একাধারে গীতিকার, সংগীত ও চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং ফ্যাশন ডিজাইনার। তিনি সব সময়ই আলোচিত নিজের কাজ, স্টাইলিং এবং অবশ্যই তাঁর তারুণ্যোজ্জ্বল ত্বকের জন্য।

বয়স চল্লিশ পেরিয়েছে অনেক আগে। কিন্তু চেহারায় তাঁর কুড়ির তারুণ্য। বলছি ফ্যারেল উইলিয়ামের কথা। ‘হ্যাপি’ ও ‘গেট লাকি’র জন্য বিখ্যাত আমেরিকান এই সংগীতশিল্পী একই সঙ্গে একজন গীতিকার, সংগীত ও চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং ফ্যাশন ডিজাইনারও। বিখ্যাত ফরাসি ফ্যাশন ব্র্যান্ড শ্যানেলের তিনিই প্রথম অ্যাম্বাসেডর। অনেকের কাছে তিনি একজন আইডল। সব সময়ই আলোচিত হয়েছেন নিজের কাজ, স্টাইলিং এবং অবশ্যই তাঁর তারুণ্যোজ্জ্বল ত্বকের জন্য।

ফ্যারেল কখনোই নিজের বিউটি রুটিন নিয়ে লুকোছাপা করেননি। খুশি মনেই সবাইকে বলেছেন নিজের ত্বকের যত্ন তিনি কীভাবে নেন। এভাবে তাঁর পুরুষ ভক্তদের রূপচর্চা করার প্রতি উৎসাহ দিয়ে থাকেন। ফ্যারেল বলেন, সবাই মনে করেন স্কিন কেয়ার বা স্কিন হেলথ কেবল নারীদের জন্য। আসলে এটি সবার জন্য। চেহারায় ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটে, তাই এর যত্ন নিতেই হবে।

ফ্যারেল নিজের সুন্দর, উজ্জ্বল, বলিরেখাহীন ত্বকের জন্য বিখ্যাত মডেল নাওমি ক্যাম্পবেল এবং ডারমাটোলজিস্ট ডা. এলেনা জোনসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কারণ, নাওমিই প্রথম তাঁকে তাঁর ডারমাটোলজিস্টের কাছে পাঠান এবং শেখান কীভাবে ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করতে হয়। এর আগের নিজের ত্বকের যত্ন নিয়ে খুব একটা গা করতেন না। ডা. এলেনা জোনসই তাঁকে ত্বক পরিচর্যা সম্পর্কে আলাদা করে ভাবতে শিখিয়েছেন।

গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডজয়ী এই শিল্পী সম্প্রতি নিজের ডারমাটোলজিস্ট ডা. এলেনা জোনসের সঙ্গে মিলে নিয়ে এসেছেন স্কিন কেয়ার ব্র্যান্ড হিউমেনরেস। ত্বকের যত্ন নিতে প্রতিদিন যা ব্যবহার করেন, তা নিয়েই হিউমেনরেসের যাত্রা শুরু করেন ফ্যারেল। খুব বেশি কিছু না। তাঁর রূপচর্চা সীমিত মাত্র ছয় ধাপে। এর ভেতর হিউমেনরেসে আছে একদম বেসিক স্কিন কেয়ার পণ্য—রাইস পাউডার ক্লিনজার, লোটাস এনজাইম এক্সফোলিয়েটর ও হিউমিডিফাইয়িং ক্রিম। ত্বকের জন্য আগে থেকেই প্রাকৃতিক উপাদানে পরিপূর্ণ স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টে ভরসা ফ্যারেলের। হিউমেনরেসের প্রায় সব পণ্যই প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি।

রাইস পাউডার বা চালের গুঁড়া ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারী—এ আমরা সবাই জানি। হিউমেনরেস রাইস পাউডার ক্লিনজারে চালের গুঁড়ার সঙ্গে আরও আছে ভিটামিন ই, ম্যাপল চিনি, আখের চিনি, জলপাই তেল, স্নো মাশরুম, নারকেলের অ্যাসিডসহ আরনিকা ফুল, কমলা, লেবু ও বিলবেরি ফলের নির্যাস। অন্যদিকে এক্সফোলিয়েটরে আছে লোটাস এনজাইম, মিষ্টিকুমড়া, আপেল, পেঁপে, বেদানা, চালের গুঁড়াসহ আরও অনেক কিছু। সবশেষে হিউমিডিফাইয়িং ক্রিমের প্রধান উপাদান হায়ালুরনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন, নায়াসিনামাইড, ডাব ও নারকেলের পানি। সব কটি উপাদান ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রেখে বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করে থাকে।

ফ্যারেল সাধারণত সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ত্বকের সঠিক পরিচর্যা করেন। সবার প্রথমে রাইস ক্লিনজার পাউডার দিয়ে নাওমি ক্যাম্পবেলের মতো ‘আপওয়ার্ড সার্কেল’–এ মুখ পরিষ্কার করেন। অর্থাৎ মাধ্যাকর্ষণের বিপরীত দিকে মুখ ম্যাসাজ করেন। একই ভাবে এক্সফোলিয়েটর ও হিউমিডিফাইয়িং ক্রিম মাখেন। মুখ ধুয়ে ফেলার পর খুব সিরিয়াসভাবে এক্সফোলিয়েট করেন। যাঁরা ফ্যারেলকে চেনেন, তাঁরা জানেন যে তিনি একজন এক্সফোলিয়েট ‘অবসেসড’ ব্যক্তি। এই সত্যতা মেলে তাঁর একটি কথায়। এক ম্যাগাজিনের সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর ভক্তদের উপদেশ দেন, ‘পাগলের মতো এক্সফোলিয়েট করুন। এমনভাবে যে আগামীকাল আর আসবে না।’

এরপর টি–জোন আর চোখের নিচের অংশে ব্যবহার করেন ভিটামিন সি অ্যাম্পুল। তিনি মনে করেন, বয়স ত্রিশ পেরোলে নারী–পুরুষ সবারই উচিত ভিটামিন সি সিরাম বা অ্যাম্পুল ব্যবহার করা। এটি ত্বকের বয়সের গতি কমায়। অ্যাম্পুল লাগিয়ে একটু অপেক্ষা করেই লাগান হিউমিডিফাইয়িং ক্রিম।

দিনের বেলা বাইরে বের হওয়ার প্রয়োজন হলে এর ওপরই ব্যবহার করেন এসপিএফ লোশন। সবশেষ ঠোঁটে লাগিয়ে নেন নিজের সবচেয়ে প্রিয় শ্যানেল রু কোকো লিপ বাম। এ ছাড়া ফ্যারেল উইলিয়াম ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখতে সারা দিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করেন।

Powered by Blogger.