Header Ads

ভিটামিন-সি থাকুক CTM রুটিন জুড়েই


স্কিন কেয়ারে যারা নতুন তারা অনেকেই হয়তো ক্যাপশন দেখে ভাবছেন, CTM আবার কী? জটিল কিছু মনে হলেও আসলে ব্যাপারটি খুবই সিম্পল। আমরা স্কিন কেয়ারে প্রধানত যে ৩টি স্টেপ ফলো করে থাকি, অর্থাৎ ক্লেনজিং (Cleansing), টোনিং (Toning) এবং ময়েশ্চারাইজিং (Moisturizing) সেটাকেই সংক্ষেপে CTM বলে। স্কিনকেয়ার মূলত এই ৩টি বেসিক স্টেপকে ফলো করে করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে আমরা অনেকেই হয়তো আমাদের ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন- পিগমেন্টেশন বা দাগ দূর করার জন্য, কিংবা ত্বকে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য সিরাম হিসেবে ভিটামিন-সি  আমাদের স্কিন কেয়ার রুটিনে এড করছি। আবার অনেকেরই ভিটামিন-সি সিরাম ব্যবহার করার ইচ্ছা থাকলেও ভিটামিন-সি নিয়ে কনফিউশন থাকার কারণে স্কিন কেয়ার রুটিনে তা যোগ করছিনা। কিন্তু কেমন হয়, যদি আমাদের পুরো CTM রুটিন জুড়েই ভিটামিন-সি থাকে?


অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, ত্বকের যত্নে ভিটামিন-সি থাকা কেন জরুরী? বা ভিটামিন সি এর  কাজ কী? অথবা CTM রুটিনে ভিটামিন-সি কীভাবে যোগ করবো? আসুন তাহলে আজকে জেনে নেই, ত্বকের যত্নে ভিটামিন- সি এর উপকারিতা আর  ক্লেনজিং, টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজিং এ কীভাবে যোগ করতে পারেন ভিটামিন-সি।


কেন CTM রুটিনে ভিটামিন-সি যোগ করবেন?

ভিটামিন সি আমাদের ত্বকের কোলাজেন প্রোডাকশনকে বাড়িয়ে দেয়, এর কারণে ত্বকের ফাইনলাইনস বা রিংকেলস পড়ার প্রবণতা কমে যায়।

ত্বকে মেলানিনের প্রোডাকশন কনট্রোল করে, যা আমাদের হাইপার পিগমেন্টেশন, স্কিনের বিভিন্ন দাগ কিংবা আনইভেন স্কিনটোনকে দূর করতে সাহায্য করে। এর ফলে ত্বক হয় উজ্জ্বল।

সূর্যের ক্ষতিকর রশ্নি থেকে আমাদের ত্বকে যে ক্ষতি হয়, তা রিপেয়ার করতে সাহায্য করে।

ত্বকের নির্জীবতা দূর করে ত্বককে করে প্রাণবন্ত ও গ্লোয়িং।

সুতরাং বুঝতেই পারছেন আমাদের রেগুলার CTM রুটিনে কেন ভিটামিন-সি থাকা জরুরী। তাই যারা আলাদাভাবে ভিটামিন-সি সিরাম স্কিনকেয়ার রুটিনে যোগ করছেন না, তাদের জন্য বেস্ট হচ্ছে, রেগুলার CTM রুটিনেই যদি ভিটামিন-সি যোগ করা যায়। এখন হয়তো অনেকেই ভাবছেন, ক্লেনজিং, টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজিং এ ৩টি স্টেপেই কীভাবে ভিটামিন-সি যোগ করা যায়? চলুন তাহলে জেনে নেই, কীভাবে আপনার রেগুলার CTM রুটিনে যোগ করতে পারেন ভিটামিন-সি।


ক্লেনজিং

ত্বকের যত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেপ হচ্ছে ক্লেনজিং। সারাদিন রোদ, ধুলাবালি, মেকআপ, সানস্ক্রিন সহ সব কিছু আমাদের ত্বকে জমে। 

এর ফলে ত্বকের পোরস হয়ে যায় ক্লগড। আর আপনি যদি স্কিন ভালোভাবে ক্লিন না করেন, তাহলে একনে, পিম্পল সহ নানা ধরনের স্কিন প্রবলেম দেখা দিতে পারে। আর তাই ত্বক পরিষ্কারের জন্য দরকার ভালো একটি ক্লেনজার। আর এই ক্লেজিং এ যদি ভিটামিন-সি এর বেনিফিটস পাওয়া যায়, তবে কেমন হয় বলুন তো?


ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এমনই একটি ক্লেনজার হচ্ছে- মামাআর্থ ভিটামিন সি ফেইস ওয়াস উইথ ভিটামিন-সি এন্ড টার্মারিক। এ ফেইস ওয়াশটি ত্বকের ময়েশ্চারকে ধরে রেখে ত্বকের অতিরিক্ত তেল এবং ময়লা দূর করতে সাহায্য করবে। আর এতে থাকা ভিটামিন-সি ত্বকের কোলাজেন লেভেলকে বুস্ট করতে সাহায্য করে এবং ত্বকের ফাইনলাইনস ও রিংকেলসকে প্রিভেন্ট করে। ভিটামিন-সি এর পাশাপাশি এতে আছে টারমারিক বা হলুদ, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। টক্সিন, প্যারাবেন-ফ্রি এবং মিনারেল অয়েল যুক্ত এই ফেইসওয়াশটি ডার্মাটলজিক্যালি টেস্টেড। তাই আপনার স্কিন টাইপ যেমনই হোক না কেন, নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারবেন এই ফেইসওয়াশটি।


ব্যবহারবিধি

অয়েল ক্লেনজার ব্যবহারের পর পরিমাণ মতো ফেইস ওয়াস হাতে নিয়ে নিন। এরপর সার্কুলার মোশনে ফেইসওয়াশটি ত্বকে এপ্লাই করুন। আলতো হাতে ত্বক পরিষ্কার করুন এবং পানিয়ে দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ব্যবহারবিধি

ক্লেনজিং শেষ হলে ত্বক ভালোভাবে টাওয়াল দিয়ে মুছে নিন। এরপর একটি কটনপ্যাডে পরিমাণ মতো টোনার নিন। কটনপ্যাডটি হালকা ড্যাব করে ত্বকে লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। এরপর ত্বক টোনারটি শুষে নিলে আপনি আপনার স্কিন কেয়ারের পরিবর্তী স্টেপে যেতে পারবেন।


ময়েশ্চারাইজিং

এবার আসে স্কিন কেয়ার রুটিনের শেষ ধাপ। তা হলো ময়েশ্চারাইজিং। আপনার ত্বক অয়েলি হোক কিংবা ড্রাই , ময়েশ্চারাইজার আপনার ত্বকের জন্য খুবই জরুরী। অনেকের ধারণা থাকে, অয়েলি স্কিনে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার জরুরী নয়। কিন্তু এ ধারণাটি ভুল। আপনার ত্বকের ধরণ যেমনই হোক, নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে আপনার  ত্বক থাকবে হাইড্রেটেড এবং মসৃণ।ভিটামিন-সি যুক্ত একটি ময়েশ্চারাইজার হচ্ছে, মামাআর্থ ভিটামিন সি ফেইস ক্রিম ময়েশ্চারাইজার। এতে আছে এসপিএফ ২০, যা আপনার ত্বকে ময়েশ্চারাইজিং এর পাশাপাশি ত্বককে দিবে সান প্রটেকশন। এতে থাকা  ভিটামিন সি স্কিনের পিগমেন্টেশন এবং আনইভেন টোন কমাতে সাহায্য করে। রেগুলার ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ও মেকআপের আগে এটি ব্যবহার করতে পারবেন আপনি।


ব্যবহারবিধি

ঘুম থেকে উঠে  ক্লেনজিং এবং টোনিং এর পর পরিমাণ মতো ময়েশ্চারাইজার নিয়ে নিন। প্রয়োজন অনুযায়ী ফেইস এবং নেক এরিয়াতে ব্যবহার করুন। বাহিরে বের হওয়ার ১৫-২০ মিনিট পূর্বে এই ময়েশ্চারাইজারটি ব্যবহার করলে পাবেন সান প্রোটেকশন।এইতো গেল আপনার ক্লেনজিং, টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজিং। তবে অনেকেই ভাবছেন রাতে ময়েশ্চারাইজিং এর জন্য  এসপিএফ ২০ যুক্ত 


ময়েশ্চারাইজার এর কথা?

রাতে ঘুমানোর সময় আমাদের স্কিন  সবচেয়ে বেশি রিল্যাক্সড থাকে। আর তখন যেকোনো প্রোডাক্টের কার্যকারিতাও  থাকে অনেক বেশি। সারাদিনের ধুলো ময়লা, পলিউশন আর সূর্যের ক্ষতিকারক ইউভি রশ্নির প্রভাব কাটিয়ে ত্বককে রিপেয়ার করতে ময়েশ্চারাইজার হিসেবে স্লিপিং মাস্ক দারুণ কার্যকরী।


স্লিপিং মাস্ক

নাইট টাইম স্কিন কেয়ারের জন্য ময়েশ্চারাইজার হিসেবে দারুণ কার্যকরী একটি স্লিপিং মাস্ক হচ্ছে মামাআর্থ ভিটামিন সি স্লিপিং মাস্ক। এ স্লিপিং মাস্কটি খুব লাইটওয়েট হওয়ায় খুব সহজেই আপনাদের ত্বকে মিশে যাবে এবং এর ফর্মুলা এবং স্মেল আপনাকে খুবই সুদিং একটি অনুভূতি দিবে। আর এই স্লিপিং মাস্কটিতে আছে অ্যালভেরার নির্যাস, যা আপনার স্কিনকে রাখবে  হাইড্রেটেড।


স্লিপিং মাস্ক আপনার ত্বকের ময়েশ্চার ব্যারিয়ারকে ধরে রাখতে দারুণ কার্যকরী। যাদের ত্বকে উজ্জ্বলতা কমে গিয়েছে কিংবা এজিং এর সমস্যা দেখা দিতে শুরু করেছে তাদের জন্য এই স্লিপিং মাস্কটি খুবই উপকারী।

রাতে ডাবল ক্লেনজিং এর পর শুকনো ত্বকে  স্লিপিং মাস্কটি পরিমাণ মতো আলতো হাতে লাগিয়ে নিন। সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন। ১৫ বছরের ওপরে সবাই এই মাস্কটি ব্যবহার করতে পারবে। আর মামাআর্থের সব প্রোডাক্টই ডার্মাটলজিক্যালি টেস্টেড। তাই যেকোন ধরনের ত্বকে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারবেন।

এইতো তাহলে জানা হয়ে গেল, কীভাবে আপনার প্রতিদিনকার স্কিনকেয়ার রুটিনে ভিটামিন-সি যোগ করবেন। আশা করছি, আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য হেল্পফুল ছিল এবং এখন থেকে খুব সহজেই ভিটামিন-সি যোগ করতে পারবেন আপনার CTM রুটিনে।

Powered by Blogger.