Header Ads

জাপানের ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসায়ীরা আবারও বিপাকে


জাপানের বিনোদন ও পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য এখন চলছে চরম দুর্দিন। বছরের শুরুতে করোনাভাইরাসের কারণে সরকার জরুরি অবস্থা জারি করলে সংকটে পড়েছিল রেস্তোরাঁ, পানশালা, হোটেল, মুদিদোকান, ট্রাভেল এজেন্সি, বিনোদনসহ বিভিন্ন ব্যবসা। এরপর সরকারি প্রণোদনা ভাতা চালুর পাশাপাশি জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হয়। ফলে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে এই খাত। কিন্তু এখন করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের কবলে পড়া দেশটিতে এই খাতের ব্যবসায়ীরা আবারও সংকটের মুখে।


করোনার প্রথম ধাপের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এসব খাতকে সাহায্যে সরকার ‘গো টু ট্রাভেল’ নামের কর্মসূচি চালু করে। ওই কর্মসূচির আওতায় দেশের ভেতরে ভ্রমণে যেতে নাগরিকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি মূল্যছাড়ে ভ্রমণ ও পানাহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি এখনো কার্যকর থাকায় ভ্রমণের পুরো খরচের প্রায় অর্ধেক সরকার বহন করছে।


তবে সম্প্রতি করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউ জাপানে আঘাত হানতে শুরু করায় মূল্যছাড়ের ওই ভ্রমণ কর্মসূচি থেকে রাজধানী টোকিওসহ কয়েকটি শহরকে বাইরে রাখার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। সংক্রমণ প্রতিরোধে গঠিত বিশেষজ্ঞ প্যানেল করোনা রোগীর সংখ্যা সম্প্রতি হঠাৎ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ‘গো টু ট্রাভেল’ কর্মসূচিকে দায়ী করেছে। বিলম্ব না করে এই কার্যক্রম সংকুচিত করার সুপারিশও করেছে প্যানেল। সরকার এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউয়ের প্রভাব জাপানের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর পড়তে শুরু করেছে। টোকিওতে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো দৈনিক করোনা শনাক্তের হার ৪০০–এর নিচে নেমে এলেও গত এক সপ্তাহের পরিস্থিতি নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নয় কর্তৃপক্ষ। গত শনিবার সারা দেশের দৈনিক সংক্রমণের হিসাব তিন হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সংকটাপন্ন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জাপান সরকার ও টোকিওর প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানী ও বড় শহরগুলোর রেস্তোরাঁ ও পানাশালা, নাইট ক্লাব ও কারাওকে রাত ১০টার মধ্যে বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ফলে আবারও ক্ষতির মুখে পড়েছে এসব ব্যবসা। বছর শেষে এ ধরনের ব্যবসা খাত দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে বলে আভাস দিয়েছে টোকিও শোকো রিসার্চ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।


শোকো রিসার্চের চালানো জরিপ অনুযায়ী, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে কমপক্ষে ১ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৯৬ হাজার মার্কিন ডলার ঋণ নিয়ে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭৯২। এই হিসাব এক বছর আগের একই সময়ের চেয়ে ৮ শতাংশ বেশি। ফলে সব মিলিয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ চলতে থাকা অবস্থায় সার্বিকভাবে ভালো নেই জাপানের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা।

Powered by Blogger.