Header Ads

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায়, প্রস্তুত মেঘনা পাড়ের জেলেরা

আর মাত্র ৩ দিন পরেই নদীতে ইলিশ শিকারে যাবেন জেলেরা। আর তাই বসে থাকার সময় নেই তাদের। মাছ শিকারে যাওয়ার আগেই নৌকা ও জাল প্রস্তুত করছেন জেলেরা। কেউ নৌকা মেরামত করছেন, কেউবা আবার নতুন করে নৌকা তৈরি করছেন। সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে এমন প্রস্তুতি জেলেদের। দিন যত ঘনিয়ে আসছে ঠিক ততই যেন ব্যস্ততা বাড়ছে তাদের।

ভোলার দৌলতখান উপজেলার সুলিজগেইট এলাকায় মেঘনা পাড়ের জেলেদের এমন ব্যস্ততা চোখে পড়ে। নদীর কুল ঘেঁষে বাঁধের ওপর রাখা হয়েছে সারি সারি নৌকা ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার। সেখানেই ওই নৌকা বা ট্রলার মেরামতের কাজ করছেন জেলেরা। বেকার জেলেদের সময় কাটছে নৌকা বা ট্রলার প্রস্তুতি নিয়ে। শুধু এখানেই নয়, নৌকা প্রস্তুতের এমন চিত্র দৌলতখানের বিভিন্ন মাছঘাট এবং মেঘনার পাড়ের এলাকাগুলোতে দেখা যায়।

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর ২২ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। ৪ নভেম্বর থেকে ফের মাছ ধরা শুরু হবে নদীতে। সেই দিনটিকে সামনে রেখে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা। মেঘনা পাড়ে ব্যস্ততার মধ্যে দিন পার করছেন তারা।

জেলে ভুট্টু নান্টুসহ কয়েকজন জেলে জানান, এখন নদীতে মাছ ধরা বন্ধ, নৌকা-ট্রলার নিয়ে নদীতে যাওয়া বন্ধ রয়েছে। এ কদিন ধার দেনা করে দিন পার করেছেন। সামনে আসছে মাছ ধরার সময়, তাই নৌকা মেরামত করছেন। আগে থেকে নৌকা তৈরি করতে না পারলে তখন সময় পাওয়া যাবে না।  মাছ শিকারে যাওয়ার জন্য নৌকা মেরামত ও রঙ দেওয়ার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছিলেন জেলেরা।

তারা বলেন, এ বছর ভরা মৌসুমে তেমন মাছ ধরা পড়েনি। আশা করি ইলিশ নিষেধাজ্ঞার পর ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে। তখন মাছ ধরেই ঋণ পরিশোধ করতে পারবো। ঘুরে দাঁড়াতে পারবো। 

ভোলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, এবার ইলিশ রক্ষা অভিযান শতভাগ সফল হয়েছে। এতে আমাদের ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। এ বছর ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন।

তিনি বলেন, ২২ দিনের ইলিশ নিষেধাজ্ঞার সময় জেলে পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দকৃত জাল বিতরণ শেষ হয়েছে। ৪ নভেম্বর থেকে জেলেরা মাছ শিকারে যেতে পারবে।
Powered by Blogger.