Header Ads

খুশকি তাড়ানোর ৭টি ঘরোয়া পদ্ধতি


শীতকাল তো চলেই এলো। একইসঙ্গে নিয়ে এল ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সমস্যাও। শুধু কি তাই? এ সময় চুলেরও প্রচুর সমস্যা শুরু হয়। মাথার চামড়া শুকিয়ে গিয়ে খুশকির প্রকোপ কয়েকগুন বেড়ে যায় শীতকালে। সব থেকে চিন্তার বিষয় হল অনেক সময়ই দামী দামী শ্যাম্পু, তেল ব্যবহার করেও খুশকিকে দূর করা যায় না। আসলে খুশকি হওয়ার কোনও বয়স লাগে না। ছোট থেকে বড়, সকলেরই হতে পারে এই ত্বকের রোগ। তবে কতগুলি ঘরোয়া উপায়া আছে যার সাহায্য এমন সমস্যারও নিবারণ সম্ভব।
১. নারকেল তেল এবং লেবুর রস
মাথার তেল হিসাবে নারকেল তেলের থেকে ভাল কিছু হয় না। আর এর সঙ্গে যদি লেবুর রস মেশানো যায়, তাহলে তো কথাই নেই। ক্ষতিকারক কেমিক্যালের থেকে নারকেল তেল এবং লেবুর রসের মিশ্রণ খুশকি তাড়াতে দারুণ কাজে আসে। এক্ষেত্রে ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল গরম করতে হবে। এর সঙ্গে সমপরিমাণ লেবুর রস মেশাতে হবে। তারপর সেই মিশ্রন লাগাতে হবে মাথায়। ২০ মিনিট রেখে ভাল করে শ্যাম্পু করে নিতে হবে।
২. মেথির হেয়ারপ্যাক
মেথি ব্যবহার করলে খুব সহজে খুশকির হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়াও মেথি চুল পড়া, অকালপক্বতা এবং উকুনের মতো সমস্যা দূর করতেও কাজে আসে। এমনকি, চুলের গোঁড়া শক্ত করতে এবং চুলকে ঝলমলে রাখতে পারে মেথি। সারা রাত অল্প পরিমাণ পানিতে মেথিদানা ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর জল থেকে মেথি আলাদা করে বেঁটে নিতে হবে। এবার বেঁটে রাখা মেথি এক ঘণ্টার জন্য চুলের গোঁড়ায় মেখে রেখে দিতে হবে। সময় হয়ে গেলে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে।
৩. দই
যারা চুলে হেনা করেন, তাদের অনেকেই দইও ব্যবহার করে থাকেন। দই চুলকে সুস্থ এবং উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। তবে শুধুমাত্র চুলকে উজ্জ্বল রাখাই নয়, চুলের নানারকম সমস্যা দূর করতেও দইয়ের জুড়ি মেলা ভার। যেমন, খুশকি দূর করতে দই খুবই উপকারি একটি উপাদান। এক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে দই চুলের গোঁড়ায় এবং চুলে লাগিয়ে নিতে হবে। এবার এক ঘণ্টার জন্য দই লাগিয়ে রাখার পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে।
৪. বেকিং সোডা
খুশকি তাড়াতে বেকিং সোডাও দারুণ কাজ করে। শুধু তাই নয়, চুলের বৃদ্ধিতেও বেকিং সোডা সমান ভাবে উপকারি। তাই ঘরোয়া পদ্ধতিতে খুশকি তাড়াতে হলে অবশ্যই বেকিং সোডা ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে চুল সামান্য ভিজিয়ে নিয়ে এক চামচ বেকিং সোডা নিয়ে চুলের গোঁড়ায় মালিশ করতে হবে। ৬০ থেকে ৯০ সেকেন্ড রেখে চুল ধুয়ে নিতে হবে।
৫. টি ট্রি অয়েল
বাড়িতে বসে ঘরোয়া উপায়ে খুশকি তাড়াতে হলে খুব কার্যকরি উপায় হল টি ট্রি অয়েল। নিয়ম করে এই তেলটি ব্যবহার করলে খুশকি খুব সহজে দূর হয়ে যায়। প্রসঙ্গত, এই তেলটির আরও গুণ রয়েছে। ত্বকের যত্নেও এই টি ট্রি অয়েল দারুণ উপকারি ভূমিকা নেয়। কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল চুলের গোঁড়ায় দিতে হবে এবং ভাল করে মালিশ করতে হবে। পাঁচ মিনিটের জন্য রেখে দিতে হবে। তারপর চুলে শ্যাম্পু করে নিতে হবে।
৬. আপেল সিডার ভিনেগার
খুশকি তাড়ানো এবং চুল পড়ে যাওয়া সত্যিই খুব চিন্তার বিষয়। চুলের সৌন্দর্য সারাজীবনের জন্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যদি এই দুই সমস্যা আপনার সঙ্গে হয়ে থাকে। তবে, এই সমস্যা থেকে আপনাকে সহজেই মুক্তি দিতে পারে আপেল সিডার ভিনেগার। এক্ষেত্রে সমপরিমাণ আপেল সিডার ভিনেগার এবং পানি নিয়ে মেশাতে হবে। এবার চুল ভিজিয়ে এই মিশ্রণটি ভেজা চুলে লাগাতে হবে। ভাল করে মালিশ করে ১৫ মিনিটের জন্য চুলে রেখে দিতে হবে। তারপর ধুয়ে ফেলতে হবে।
৭. হেনা
চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে হেনা যে কতটা বড় ভুমিকা গ্রহণ করে, তা আর নতুন করে বলার দরকার নেই। চুলকে ঘন, লম্বা এবং মজবুত করতে যেমন হেনা সাহায্য করে, তেমনই হেনা খুশকি দূর করতেও কাজে দেয়। হেনার সঙ্গে চায়ের লিকার, দই এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মেশাতে হবে। এবার এই মিশ্রণটি ৮ ঘণ্টা ধরে একটি পাত্রে ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে। এবার চুলের গোঁড়ায় এবং চুলে লাগাতে হবে। টানা দুই ঘণ্টা রেখে চুল ধুয়ে নিতে হবে।
Powered by Blogger.