Header Ads

জীবনের ১৩ শিক্ষা, যা স্কুল-কলেজে শেখানো হয় না


শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমরা যেসব শিক্ষা লাভ করি, তার অনেকগুলোই জীবনের নানা কাজে ব্যবহার করতে ব্যর্থ হই আমরা। আবার জীবনের অনেক শিক্ষা রয়েছে, যা স্কুলে পাওয়া যায় না। এ লেখায় দেওয়া হলো তেমন কয়েকটি শিক্ষা। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।
১. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঋণ
বাংলাদেশে আমরা যে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনা করি সেগুলোতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় বেতন-ফি অত্যন্ত কম। আর এ বাড়তি অর্থ ব্যয় করা হয় সরকারি কোষাগার থেকে, যা জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের ওপর আরোপিত কর থেকে সংগৃহীত। পরবর্তী জীবনে তাই বিষয়টি মাথায় রেখে এ ঋণ শোধ করার চিন্তা থাকা উচিত যে কোনো বিবেকসম্পন্ন মানুষেরই।
২. বেতন মানেই সবকিছু নিয়ে যাওয়ার জন্য নয়
আপনি পাস করার পর কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিলেই তার সব বেতন যে হাতে করে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবেন, এমনটা নয়। এ অর্থ থেকে আপনার আয়কর দিতে হবে।
৩. ক্রেডিট স্কোর
ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের বিল ও অন্যান্য কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করলে আপনার ক্রেডিট স্কোর অনেক বেড়ে যাবে। অন্যদিকে নিয়মিত ঋণ শোধ না করলে তা কমতে থাকে। এ ক্রেডিট স্কোরের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে আপনি ঋণ পাবেন কি না, নির্ধারিত হয়।
৪. ক্রেডিট কার্ডের মিনিমাম বিল পর্যাপ্ত নয়
কোনো ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে আপনার প্রতি মাসে প্রশ্ন থাকতে পারে, সর্বনিম্ন কত টাকা পরিশোধ করতে হবে। সে টাকাই অনেকে পরিশোধ করতে চান। যদিও ব্যাংকের আরও কিছু চার্জ থাকে যা আপনাকে প্রথমে জানাতে চায় না। পরবর্তীতে নানা চার্জের কারণে খরচের পাল্লা বেড়ে যায়। তাই মিনিমাম বিল নয়, তার চেয়েও বাড়তি কিছু টাকা পরিশোধ করুন।
৫. দ্রুত বিনিয়োগ করুন
আপনি যদি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেন তাহলে তা সব সময় পর্যালোচনা করুন। কোনো একটি প্রতিষ্ঠানে লাভজনক বিনিয়োগের সুযোগ পাওয়া গেলে সেজন্য কখনোই বেশি দেরি হয়ে গেছে বলে মনে করবেন না। দেরিতে বিনিয়োগেও সুফল পাওয়া যেতে পারে।
৬. বিনিয়োগের নানা বিষয়
কিভাবে অর্থ বিনিয়োগে আপনার লাভ হবে এবং আর্থিকভাবে সুবিধা অর্জন করা যাবে এসব বিষয় কখনোই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় জানা যায় না। তবে কিছুটা সহায়ক জ্ঞান অর্জন করা যায়।
৭. পরিবারে অর্থের আলোচনা
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যেভাবে আর্থিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন, তা কখনোই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় জানা যায় না। তবে আপনার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সব সময়েই এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা উচিত। এক্ষেত্রে কিছুটা সচেতন হলে যে কেউ তা করতে পারবেন।
৮. অবসরের জন্য চিন্তা করা উচিত আগেভাগেই
আপনার অবসর গ্রহণের সময় যদি বহুদিন পরেও হয় তবুও সেজন্য সঞ্চয় শুরু করুন। আগে থেকে পর্যাপ্ত অর্থ সঞ্চয় করতে পারলে আপনার অবসরের সময় যথেষ্ট স্বচ্ছল থাকা সম্ভব হবে।
৯. জরুরি তহবিলে কত টাকা রাখবেন
আপনার যদি বিপদে অর্থ ব্যয়ের জন্য কিছু সঞ্চয় রাখতে হয় তাহলে সেজন্য কত টাকা রাখবেন তা নিজেকেই ঠিক করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় কিছু জানা যাবে না।
১০. ইন্সুরেন্স যেভাবে কাজ করে
ইন্সুরেন্স প্রতিষ্ঠানগুলো নানা উপায়ে তাদের কার্যক্রম চালায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নানা অফার থেকে কোন ইন্সুরেন্স আপনার কাজে লাগবে তা নিজেকেই জেনে নিতে হবে। এজন্য নানা প্রতিষ্ঠানের অফার ভালোভাবে পর্যালোচনা করুন।
১১. নানা বিলের মাঝেই অর্থ সঞ্চয়ের উপায়
আপনার দৈনন্দিন খরচের মাঝে প্রতিনিয়ত বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে নানা ধরনের বিল। আর এ বিলগুলোর মাঝে কিভাবে আপনি অর্থ সঞ্চয় করতে পারবেন, তা নিজেকেই ঠিক করতে হবে। এজন্য আপনার প্রয়োজন একটি বাস্তবসম্মত বাজেট তৈরি করা এবং সে অনুযায়ী নিজের খরচগুলো সীমিত করে নেওয়া।
১২. বেতন নিয়ে দরকষাকষি
আপনার বেতন বৃদ্ধি করার জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে কিছু উপায় রয়েছে, যা কখনোই আপনি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে শিখতে পারবেন না। আর এ কারণে নিজের দক্ষতা ও কার্যক্রম গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করতে হবে এবং উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে বেতন বাড়ানোর বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে হবে।
১৩. সব ঋণ সমান নয়
আপনার যতই সদিচ্ছা থাকুক না কেন, সব ঋণ একত্রে শোধ করা অসম্ভব। আর এ কারণে কিছু ঋণ আগে এবং কিছু ঋণ পরে শোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে যে ঋণের সুদের হার বেশি সেগুলোর দিকে। কম সুদের ঋণগুলো পরে শোধ করলেও আর্থিকভাবে কম ক্ষতি হবে।
Powered by Blogger.