Header Ads

জাকারবার্গের বেতন ১ ডলার! নিরাপত্তায় ব্যয় বছরে ৫ মিলিয়ন

ফেসবুকের উত্থান সিলিকন ভ্যালির কিংবদন্তি হয়ে রয়েছে। সিইও মার্ক জাকারবার্গ হার্ভার্ড থেকে বেরিয়ে আসেন তার সোশাল নেটওয়ার্ক সাইটকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে। বর্তমানে ফেসবুক বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের একটি।
সম্প্রতি রেডউড সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো ফেসবুকের শেয়ারহোল্ডারদের বার্ষিক সভা। ক্যালিফোর্নিয়ার হেডকোয়ার্টার থেকে ২০ মিনিটের পথ। সেখানে জানা গেল দারুণ ৫টি তথ্য। এগুলো তুলে ধরেছেন সি নেটের বিশেষজ্ঞ।
১. জাকারবার্গ অ্যাপলের সাবেক সিইও স্টিভ জবসের পথ অনুসরণ করেছেন। তার বেতন মাত্র ১ ডলার। এর অর্থ এই নয় যে তিনি হতদরিদ্র মানুষ। ফেসবুক স্টকের ৪২২ মিলিয়ন শেয়ারের মালিক তিনি। এই শেয়ার এবং অন্যান্য সম্পদের পরিমাণ ৪৭.৫ বিলিয়ন ডলার। এদিকে ফেসবুকের চিফ অপারেটিং অফিসার শেরিল স্যান্ডবার্গ বেতন পান ৭ লাখ ডলার। চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার ডেভিড ওয়েনারের বেতন সাড়ে ৬ লাখ ডলার। আর চিফ প্রোডাক্ট অফিসার ক্রিস কক্স বেতন পান ৬ লাখ ২৫ হাজার ডলার। এদের সবার জন্যে বোনাস ও স্টকের ব্যবস্থাও রয়েছে।
২. বিশ্বের চতুর্থ ধনী ব্যক্তি হিসাবে ফোর্বসের তালিকায় উঠে এসেছে মার্ক জাকারবার্গের নাম। গ্রহের সবচেয়ে ক্ষমতাধরদের মধ্যে তার স্থান ১৯তম। কাজেই তার নিরাপত্তা জরুরি। বছরে এ কাজে ৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়। ফেসবুকের তথ্যমতে, বেশ কিছু হুমকি রয়েছে মার্কের জীবনে। তার একাধিক বাড়ির নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত বিমানসহ যাবতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা সামলাতে এই অর্থ ব্যয় করতে হয়। সম্প্রতি স্যান্ডবার্গের জন্যেও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে ফেসবুক। এর পেছনে বছরে গুনতে হয় ১.৩ মিলিয়ন ডলার।
৩. ফেসবুককে খুবই নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান বলা হয়। অর্থাৎ, এ প্রতিষ্ঠানে তার কর্তৃত্ব অসীম। কেবল সিইও হওয়ার জন্যেই নয়, তার রয়েছে বিশেষ 'ক্লাস বি' শেয়ার। এর প্রতিটির পেছনে ১০টি করে ভোট রয়েছে। সম্প্রতি 'ক্লাস সি' শেয়ারের প্রস্তাব করা হয়েছে যার জন্যে কোনো ভোটের প্রয়োজন হবে না। বেশ কয়েকজন শেয়ারহোল্ডারের কাছে এ বিষয়টি পছন্দসই নয়। তারা সব শেয়ার সমমানের দেখতে চান। কিন্তু এতে রাজি নন জাকারবার্গ।
৪. ফেসবুকের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট অকুলাস নিয়ে তোলপাড় হয়েছে। জাকারবার্গের বিশ্বাস, এটি হবে ফেসবুকের ভবিষ্যতের বড় পদক্ষেপ। প্রযুক্তি দুনিয়াটাকে বদলে দিতে পারে এই পণ্য। গত বছর থেকে এ নিয়ে আলোচনা হলেও এত সহজে বাজারে আসছে না পণ্যটি। ওয়েনার জানান, এ বছরেও ফেসবুকের গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হয়ে বিক্রির জন্যে বাজারে আসবে না অকুলাস।
৫. গত ডিসেম্বরে জাকারবার্গ দম্পতির কোলজুড়ে আসে তাদের প্রথম সন্তান। তখন তিনি ঘোষণা দেন, ফেসবুক পৃথিবীটাকে আরো সুন্দর করতে কাজ করবে। বলেন, আমাদের এই বিশাল বিনিয়োগের পেছনে একটা নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। সদ্য অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এক বিবৃতিতে জানান, এ শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবী থেকে সকল রোগ দূরীকরণে কাজ করবেন। এ ছাড়া জলবায়ুর পরিবর্তনে পরিবেশ রক্ষাতেও কাজ করবেন তিনি।
এ সবই আসলে তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা। এখন বয়স তার ৩১ বছর। দেখা যাক, তিনি কতটুকু পারেন।
Powered by Blogger.