Header Ads

২০২০ সালে কেমন হবে 'ইন্টারনেট অব থিংস'?


শুধু কম্পিউটার কিংবা স্মার্টফোন নয়, ভবিষ্যতে ফ্রিজ, টিভি কিংবা এ ধরনের অন্য সব ডিভাইসই ইন্টারনেটে সংযুক্ত হবে। আর এ ডিভাইসগুলো যখন নিজেরাই পরস্পর যোগযোগ করবে তখন তাকে ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) বলা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, পরবর্তী বিপ্লব আসছে ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ঘিরে। ব্যবসা, সরকার ও ভোক্তার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বিশ্বের পারস্পরিক যোগাযোগের পথ একবারেই পরিবর্তন করে দেবে আইওটি। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।
ইন্টারনেট অব থিংস
ইন্টারনেট সংযুক্ত ডিভাইস বলতে আমরা এখন বুঝি ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, স্মার্টফোন, এসব। কিন্তু প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে এখন অন্যান্য অনেক কিছুই ইন্টারনেট সংযুক্ত হয়ে পড়ছে। এগুলোকে বলা হচ্ছে স্মার্ট ডিভাইস। এখন টিভি, ফ্রিজ, গাড়ি, এমনকি দরজার তালাতেও ইন্টারনেট সংযুক্ত হচ্ছে।
এতে লাভ কী? আধুনিক স্মার্ট ফ্রিজের কথা উদাহরণ হিসেবে বলা যায়। ফ্রিজকে ইন্টারনেটে যুক্ত করে লাভ কী? সুবিধাটা হলো ফ্রিজে ইন্টারনেট সংযুক্ত হলে তা অন্য ডিভাইসের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। যেমন বাজার করতে হবে? ফ্রিজ খোলার দরকার নাই, আপনার ফ্রিজ নিজেই ভিতরে কী আছে তা জেনে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সে তথ্য আপনার স্মার্টফোনে চলে যাবে। আরও পরে হয়ত ফ্রিজ সরাসরি অনলাইনে অর্ডার দিয়ে কিনে ফেলতে পারবে নিত্যপণ্য। এতে আপনার কাজ যেমন কমে যাবে তেমন বাজার করার জন্য চিন্তাও করতে হবে না।
স্মার্ট চুলার কথা ধরা যাক। আপনি রান্না করার জন্য বাড়তি কোনো কাজই করবেন না। রান্নার রেসিপিও আর মনে রাখতে হবে না। শুধু অর্ডার দিলেই অনলাইন থেকে রেসিপি নেমে যাবে চুলায়। আর তা আপনার জন্য রান্নাও করে রাখবে। স্মার্ট লকের কাজ? ধরুন বাড়িতে অতিথি এসেছে কিন্তু আপনি অফিসে। এ অবস্থায় তালাকে অর্ডার দিলেই তা দরজা খুলে অতিথিকে বসার জায়গা করে দেবে। এভাবেই ইন্টারনেট অব থিংস পাল্টে দিতে যাচ্ছে আগামীর বিশ্বকে। সেই পরিবর্তনটা আসবে হয়ত বেশি দিন না, আর অল্প কয়েক বছর পরই।
আসছে বিশাল পরিবর্তন
২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ২৪ বিলিয়ন ডিভাইসে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হবে। আর এ কারণে আইওটি খাতে বিনিয়োগ হবে প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের। ব্যবসায় এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে উল্লেখযোগ্য হারে। উৎপাদনশীলতা বাড়বে, সেই সঙ্গে ব্যয়সংকোচনসহ নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও কাজে লাগাবে আইওটি।
ইন্টারনেট অব থিংস থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। তবে এ থেকে আরও বহু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান লাভবান হবে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের সরকারও বিষয়টির গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে আইওটি ইকোসিস্টেমের দ্বিতীয় বড় গ্রাহক সরকার। এর পর রয়েছে ভোক্তাসমাজ। এখনো তারা বড় অঙ্কের ডিভাইস কিনছে। আইওটি ইকোসিস্টেমে অর্থ বিনিয়োগও করছে উল্লেখযোগ্য হারে।
ব্যবসা-বাণিজ্যে আমূল পরিবর্তন
এক হিসাবে জানা গেছে, ২০২০ সালের মধ্যেই ১১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডিভাইস সংযুক্ত হবে ইন্টারনেট অব থিংস-এ। আর এর পেছনে ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হবে। তবে তা থেকে ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ফিরে আসবে।
সরকার
বিভিন্ন দেশের সরকার এ সুযোগকে কাজে লাগাবে। এ জন্য ৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডিভাইস ইনস্টল করা হবে ২০২০ সাল পর্যন্ত। এতে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে। অবশ্য এ বিনিয়োগ থেকে ২০১৫-২০২৫ সালে ফিরে আসবে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
ভোক্তা
ইন্টারনেট অব থিংস ব্যবহারে ভোক্তারাও উপকৃত হবে। তারা বিভিন্ন যন্ত্রপাতির পেছনে ২০১৫-২০২০ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডিভাইস ইনস্টল করবে, যার পেছনে খরচ হবে ৯০০ মিলিয়ন ডলার। এ থেকে ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ফিরে আসবে।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইন্টারনেট অব থিংস
উৎপাদন ক্ষেত্র থেকে শুরু করে স্মার্ট বাড়িঘর কিংবা ব্যাংক সবাই ব্যবহার করবে ইন্টারনেট অব থিংস। আর এ কারণে যেসব ক্ষেত্রে ইন্টারনেট অব থিংস প্রসারিত হবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যানুফ্যাকচারিং, তেল, গ্যাস ও খনিজ, পরিবহন, বিমা, প্রতিরক্ষা, অনলাইন সংযুক্ত বাড়ি, কৃষি, ফুড সার্ভিস, অবকাঠামো, ইউটিলিটি সেবা, পাইকারি পণ্যের বাজার, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, লজিস্টিকস, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংক ও স্মার্ট বিল্ডিং।
Powered by Blogger.