Header Ads

এক চকলেট বারের সমান ওজনের শিশু!

সে যখন জন্মেছিল, তার ওজন ছিল একটি চকলেট বারের সমান। নির্ধারিত সময়ের ১২ সপ্তাহ আগেই জন্মেছিল সে। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের পক্ষ থেকে তাকে আখ্যা দেয়া হয়েছিল ‘এশিয়ার হাল্কাতম শিশু’ হিসেবে।

তবে সেই ছোট্ট শিশুটিকে যে প্রাণে বাঁচানো যাবে, সেটা ভাবেননি তার মা-বাবাও। সেই মানুষী এখন সুস্থ। ২১০ দিন ধরে যমে মানুষে টানাটানির পরে অসাধ্য সাধন করে ফেলেছেন ভারতের রাজস্থানের অনন্ত মেডিক্যাল কলেজের শিশু বিভাগের চিকিৎসকরা।

বিভাগীয় প্রধান ড. এক কে তাক বলেছেন, এ সাফল্য বিরলের মধ্যে বিরলতম। কৃতিত্ব আমাদের চিকিৎসকদের, যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে মানুষীকে সুস্থ করে তুলেছেন। আমাদের হাতে অত্যাধুনিক যন্ত্র ও প্রযুক্তি ছিল বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।

জন্মের সময় মানুষীর দৈর্ঘ্য ছিল ৮.৬ ইঞ্চি। পায়ের পাতার দৈর্ঘ্য ছিল একটি পূর্ণবয়স্ক মানুষের বুড়ো আঙুলের নখের সমান।

হৃদ্পিণ্ডের রক্ত সঞ্চালনের শক্তি ছিল না। কাজ করছিল না ফুসফুস, মস্তিষ্ক, কিডনি। ত্বক ছিল কাগজের চেয়েও পাতলা।

কিন্তু রক্তচাপের কারণে মায়ের প্রাণসংশয় হয়ে যাওয়ায়, মানুষীর জন্ম দিতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা।
তারপর ২১০ দিন ধরে নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে চলে তার চিকিৎসা।

চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষী। তার ওজন বেড়ে দাঁড়িয়েছে আড়াই কিলোগ্রামের একটু বেশি। আনন্দে আপ্লুত মানুষীর বাবা গিরিরাজ ও মা সীতা।

তারা বলছেন, চিকিৎসকদের কী বলে ধন্যবাদ দেব জানি না। তারা অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন।

এদিকে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, মানুষীর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা ছিল ০.৫ শতাংশ। আমরা ওই সুযোগটুকুই কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি।
Powered by Blogger.